কবুতরের সংক্রামক করিজা || কবুতরের রোগ।

কবুতরের সংক্রামক করিজা || কবুতরের রোগ।
সংক্রামক করিজা কবুতরের একটি জটিল সংক্রামক রোগ। এটি মারাত্মক ছোঁয়াচে/ সংক্রামক রোগ। এটি Homophilus Gallinarum ব্যাকটেরিয়ার জীবাণু থেকে এই রোগ সৃষ্টি হয় শারীরিক ভাবে দুর্বল বা ২ থেকে ৭ সপ্তাহের বাচ্চা এই রোগেআক্রান্ত হয়। এই রোগের সাথে একচোখ ঠাণ্ডা(one eye coldness)এর সাথে সাদৃশ্য আছে বা এই রোগের প্রাথমিক স্তর কেও বলা যেতে পারে। 
কবুতরের সংক্রামক করিজা (Coryza, Infectious Cold, Rhinils,Roup)h
কারনঃ 
) পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব।
) স্যাঁতস্যাঁতে খামার বা মাচা/বাটি।
) Parasite এর আধিক্য।
) পরিবেশের ধুলা বা শুকনো বিষ্ঠা থেকে সৃষ্ট ধুলা।
) অতিরিক্ত crowded.
) ঔষধের যথেচ্ছ ব্যবহার।
 
লক্ষনঃ
) প্রথমে নাক থেকে আঠাল ও ঘন হরিদ্রাভ/ সাদা পানির মত নির্গত হয়।
) চোখ থেকে দুর্গন্ধ যুক্ত পানি বের হয়।
) চোখে পিচুটি জমে, এভাবে জমতে জমতে চোখ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
) চোখ ও মাথা গায়ে ঘষতে থাকে বা পা দিয়ে মাথা চুলকাতে থাকে, ফলে চোখে পর লেগে ও গায়ে পিচুটি লেগে নোংরা হয়ে যায়।
) মাথা ও পাখা ঝুলে পড়ে।
) বুকে ঘর ঘর শব্দ করে,নাক প্রায় বন্ধ হয়ে আসে তাই শ্বাস হাঁ করে নিতে থাকে।
) প্রথমে খুদামন্দা ও পরে একেবারেই খাবার বন্ধ করে দেয়। )
) বাচ্চার চোখের চারপাশে পুঁজ জমে হলুদ আকার ধারন করে, তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা না নিলে মারা যায়।
প্রতিরোধঃ
) আক্রান্ত কবুতরকে আলাদা করে দিন।
) খামার জীবাণুমুক্ত মুক্ত করুন।
) নিয়মিত খামার ও খাঁচা পরিস্কার করুন।
) আলোবাতাস চলাচলের প্রয়োজনীয় বাবস্থা করুন।
) খামারের জন্য আলাদা স্যান্ডেল,মাস্ক ও গ্লভস ব্যবহার করুন।
) বাইরে থেকে এসে খামারে প্রবেশ থেকে বিরত থাকুন।
) আগন্তক ও অতিথি থেকে খামার নিরাপদ রাখুন।
) মাছি ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ থেকে খামার নিরাপদ রাখুন।
চিকিৎসাঃ
) A-PHENICOL EYE OIENMENT বা BEUFLOX-D EYE DROP দিতে হবে ২ ঘণ্টা পর পর।
)এটি সঙ্গে একবার প্রতিদিন চোখ ফ্লাশ/ওয়াশ করা প্রয়োজন হতে পারে, এক্ষেত্রে BORIC ACID সহায়ক চোখ ফ্লাশ/ওয়াশ হতে পারে। অথবা সবচেয়ে ভাল হয় ঔষধের দোকানে মানুষের চোখ ধোয়ার ঔষধ পাওয়া যায় সেটি ব্যবহার করলে।
) এই রোগের ক্রিয়াশীল তেমন কোন ঔষধ নাই, তবে Doxivet 1 grm+Emodis ¼ ১০ সিসি করে, দিনে ৩-৪ বার ব্যবহার করলে ভাল উপকার পাওয়া যায়।
) হোমিও Aptimtart 200, ৩ ঘণ্টা পর পর বাবহারে ভাল উপকার পাওয়া যায়।
) চোখে যদি ছানি পড়ে তাহলে হোমিও Cunium 200, ৩ বার ৩ ফোটা করে অল্প একটু পানির সাথে খাওয়াতে হবে।
) এই অবস্থায় একটু হালকা সেঁক দিলে ভাল উপকার পাওয়া যায়।
যেকোনো রোগ থেকে নিরাপদ থাকার অন্যতম শর্ত হল পরিস্কার পরিছন্ন খামার বাবস্থাপনা। আর এর কোন বিকল্প নাই। আপনি যতই ভিটামিন ও সুষম খাবার দেন এই শর্তটি পুরন না করলে, আপনার সব চেষ্টা ও পরিশ্রম বার্থ হয়ে যাবে।

One thought on “কবুতরের সংক্রামক করিজা || কবুতরের রোগ।

Comment Here

Your email won't be public

You can use these HTML tags and markups: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

*